প্রেমিক আবুবকর (২৫)-এর প্রেমের ফাঁদ বুঝতে পারেনি মরিয়ম (২০)। ভালবেসে দেহ-মন উজাড় করে দিয়ে যখন ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর তখনই সে নিজের মাঝে অন্য আরেকজনের অস্তিত্ব অনুভব করে।
বিষয়টি জানালে গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করে দেয়ার পরামর্শ দেয় আবুবকর। কিন্তু মরিয়ম বিয়ের জন্য চাপ দেয়। দিন পনেরো আগে আবুবকর এফিডেভিটের মাধ্যমে মরিয়মকে বিয়ে করার পর স্বামীর চাপে ওইদিনই শহরের একটি ক্লিনিকে গিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। এরপরই খোলস ছেড়ে স্বরূপে আবির্ভূত হয় সে। বিয়েতে পরিবারের অস্বীকৃতির কথা জানিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলতে থাকে। দিনচারেক আগে গত রোববার আবুবকরের পরিবারের হামলার শিকার হয় মরিয়মের গোটা পরিবার। তার পিতা দরিদ্র কৃষক গিয়াস উদ্দিন আহত হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। গতকাল ভোরে প্রাকৃতিক কর্ম সেরে ঘরে ফেরার মুহূর্তে আক্রান্ত হয় মরিয়ম। আবুবকরের ৮-১০ সহযোগী তার শরীরে ঢেলে দেয় কেরোসিন তেল। আর সে কেরোসিন মাখা মরিয়মের শরীরে আবুবকর নিজ হাতে ধরিয়ে দেয় আগুন। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা পিতা গিয়াস উদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে আসা মেয়েকে দেখে নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ছাই হয়ে যাওয়া মরিয়মের শরীরটাতে ঝুঁকে পড়ে নীরব কান্নায় বার বার ডুকরে উঠছিলেন তিনি। সকালে স্বামীর হাতে অগ্নিদগ্ধ মরিয়মকে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে এমনি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দুপুরের দিকে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের নীলগঞ্জ বেত্রাহাটি গ্রামে।
বিষয়টি সদর থানায় অবহিত করলে এসআই মীর মোশাররফ হোসেন হাসপাতালে গিয়ে মরিয়মের জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
সূত্র: মানবজমিন,বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১১/আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে
No comments:
Post a Comment