Saturday, May 5, 2012

চট্টগ্রামে স্ত্রী, ২ সন্তানকে হত্যার পর চিকিৎসকের আত্মহত্যা


 
দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক পল্লী চিকিৎসক। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সোনাইছড়ি এলাকায় শনিবার সকালে নিষ্ঠুর ও অমানবিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


একসাথে চারজনের এমন মৃত্যুর ঘটনা এলাকার অনেকের কাছে রহস্যের উদ্রেক করলেও পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন এটা স্রেফ পারিবারিক অশান্তির জের ধরে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে স্ত্রীকে হত্যার পর সকালে এক মেয়ে ও এক ছেলেকেও হত্যার পর নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন গৃহকর্তা প্রকাশ বড়ুয়া।

প্রকাশ বড়ুয়ার উম্মত্ততার শিকার স্ত্রীর নাম রোজী বড়ুয়া (৩০), ছেলে সীমান্ত বড়ুয়া (১০) ও মেয়ে সোমা বড়ুয়া (৮)।

সীমান্ত স্থানীয় শাহাদ্দীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ও সোমা একই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ত। প্রকাশ বড়ুয়া স্থানীয় বাজারে একটি ঔষধের দোকান করতেন এবং পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক হিসাবে এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতেন।

প্রতিবেশীরা সকালে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানার পর পুলিশকে খবর দিলে রাঙ্গুনিয়া থানা থেকে ওসি এম এম মোর্শেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রকাশ বড়ুয়ার বাড়ির ভিতর থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়।

প্রকাশ বড়ুয়ার মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে এ হত্যার দায় নিজের বলে স্বীকার করে  পারিবারিক কলহের কারণে স্ত্রী ও নিজ সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন এবং এ হত্যার জন্য অন্য কেউ দায়ী নয় বলে লিখে যান।

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার পাশ্ববর্তী পারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান বার্তা২৪ডটনেটকে বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় পারিবারিক অশান্তির জের ধরে প্রকাশ বড়ুয়া নিজে আত্মহত্যার পূর্বে নিজ স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করেছেন। তাছাড়া এ পর্যন্ত কারো সাথে প্রকাশের পূর্ব শত্রুতার কোনো খবর জানা যায়নি।’’

জানা যায়, প্রকাশ বড়ুয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোজীকে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে করেন এবং রোজী পরে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন।

প্রকাশের লেখা চিরকুটের উদ্ধৃতি দিয়ে জাহেদ চেয়ারম্যান জানান, তাদের বিয়ের এক বছর পর থেকেই দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

স্থানীয় সূত্র মতে, প্রকাশ রাত দুইটার দিকে স্ত্রীকে হত্যার পর সকালে পার্শ্ববর্তী ভাইয়ের বাড়িতে থাকা ছেলে সীমান্ত ও মেয়ে সোমাকে ঘরে ডেকে আনেন এবং তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নিজে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

রাঙ্গুনিয়া পুলিশ জানায়, এটি পারিবারিক কলহজনিত কারণে সংঘটিত খুন ও আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড, তা উৎঘাটন করা হবে। আপাতত লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও পোস্টমর্টেমের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কাজ চলছে।
bdnews24.com,চট্টগ্রাম, ৫ মে:

No comments:

Post a Comment