চট্টগ্রামে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শামসুদ্দিন ও হোটেলের কর্মী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, নগরের চকবাজার এলাকার আল আকাবা আবাসিক হোটেল থেকে গতকাল বুধবার সকালে ওই ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে মামলা করেছেন।
পাঁচলাইশ অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, ‘যে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আগে পাঁচলাইশ থানায় উপপুলিশ পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক হন। তিনি এখন সম্ভবত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কর্মরত। তাঁর ব্যবহূত গাড়ির নম্বর ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেছি। তিনি এখন পলাতক। ঘটনা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়ে আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’
পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের ইস্পাহানী স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রী তার এক বন্ধুকে নিয়ে ফয়’স লেক এলাকায় যাচ্ছিল। এ সময় লেকসংলগ্ন আনসার ক্যাম্পের সামনে তাদের রিকশার গতি রোধ করা হয়। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা জোর করে দুজনকে তাঁর প্রাইভেট কারে তোলেন। এরপর তাদের চকবাজারের হোটেল আল আকাবায় আনা হয়। ওই ছাত্রী ও তার বন্ধুকে হোটেলের পৃথক দুই কক্ষে রাখা হয়। ওই কর্মকর্তা হোটেলের কর্মী তাজুলকে ডেকে বলেন, এদের কেউ যেন অন্য কারও কক্ষে না যেতে পারে এবং বাইরের কেউ যাতে ওদের কক্ষে যেতে না পারে।
একপর্যায়ে রাতের দিকে ওই কর্মকর্তা ছাত্রীর কক্ষে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই ছাত্রী বাথরুমে গিয়ে ভেতর থেকে ছিটকিনি বন্ধ করে দেয়। তখন সে জানালার কাচ দিয়ে হাত-পা কেটে ফেলে এবং চিৎকার করে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। রাত পৌনে দুইটার দিকে ওই কর্মকর্তা প্রাইভেট কারে করে হোটেল থেকে চলে যান।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তিনি ধরাও পড়েছিলেন। তখন এসব বিষয় ধামাচাপা দেওয়া হয়।
হোটেলের কর্মী তাজুল বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কাজ করেছেন। ওই কর্মকর্তাকে তিনি আগে থেকে চিনতেন। অবাধ্য হলে তিনি মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন।
তারিখ: ১৪-০৭-২০১১
.prothom-alo
No comments:
Post a Comment